Monday, April 14, 2014

পহেলা বৈশাখ এবং বিয়োজনমূলক আচরণ




পহেলা বৈশাখ এবং বিয়োজনমূলক আচরণ
মুত্তাকী রশিদ আলভী
  
পহেলা বৈশাখ আমার ভূখণ্ডের উৎসব ইসলাম আরব দেশ থেকে এসে আজকে আমাদের এক বড় জনগোষ্ঠীর আচারের, জীবনযাপনের একটা অংশ হয়ে গেছে আমার পরিচয়ের দুই সূত্র বিনা বিরোধে আমার মধ্যে একসঙ্গে বসবাস করতে পারে, করাটাই স্বাভাবিক কিন্তু এই দুইয়ের মাঝে বিরোধ লাগিয়ে কে কোন ফায়দা উঠায়, সেটা আমি জানি না
আমাদের সব হুঙ্কারই অন্যকে নির্মূল করার হুঙ্কার, আমাদের সব কমিটিই 'নির্মূল কমিটি'কিছু লোক বলছে, পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন অনৈসলামিক কিছুদিন আগে ৭১ টিভিতে আমার খুবই প্রিয় একজন শিল্পী ঢালাও হারে বোরকা পরাকে সমালোচনা করতে গিয়ে এটাকে অবাঙালি সংস্কৃতি হিসেবে 'বাতিলের খাতায়' ফেলে দিয়েছেনএই দুই বিপরীত মেরুর চিন্তার মাঝে আমি বিশেষ পার্থক্য দেখতে পাচ্ছি নাবরং মিল খুঁজে পাচ্ছিসেটা হচ্ছে সহনশীলতা আর উদারতার ব্যাপক ফারাক
সংস্কৃতিকর্মীরা পুজোয় যাবে, বড়দিনে যাবে, পুজো নিয়ে গল্প করবে, ভাই-ফোঁটা দিবে, কিন্তু শবেবরাতে তাদের কোনো কর্মসূচি থাকবে না তারা ঈদের জামাত নিয়ে বেশি বাক্যব্যয় করবে না আমার কেন যেন মনে হতো ইসলামী আচার বা সংস্কৃতি নিয়ে বেশি উচ্চবাচ্য না করাটাই প্রগতিশীল প্রমাণ করার উপায় এই যে এভাবে আমার পরিচয় থেকে ধর্মীয় উপাদানকে তাড়ানোর চেষ্টা করল আমাদের প্রগতিশীল শিবিরের একটা বড় অংশ, এটা কি আদৌ এই জাতির বিকাশে কোনো সাহায্য করেছে? নাকি জাতিকে ভগ্নাংশেই পরিণত করেছে কেবল?
একইভাবে আমাদের ধর্মীয় শিবির থেকে যেভাবে আমাদের জাতীয় চিহ্ন, উৎসব বা পরিচয়ের উপাদানকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করার চেষ্টা করা হয়েছে, সেটা ইসলাম ধর্মের কোনো উপকারে এসেছে অহেতুক বিতর্ক বাড়ানো ছাড়া? আমি কোনো ইসলামী পণ্ডিত হিসেবে নিজেকে দাবি করি না হজরত মুহাম্মদ (সা.) যখন ইসলাম প্রচার শুরু করলেন, তখন আরব ভূখণ্ডে চালু পূর্বতন সব ধর্মগ্রন্থকেই স্বীকৃতি দিয়ে নিলেন পূর্বতন নবীদেরও শ্রদ্ধার জায়গায় বসালেন আরব সংস্কৃতির নানা আচার এবং রীতির সমন্বয় ঘটালেন ইসলামী সংস্কৃতির নানা আচার এবং রীতিতে এমনকি যারা ইসলামে ইমান আনেনি, তাদের প্রতিও তার উদারতা, সহানুভূতি আর ভালোবাসা ছিল নজিরবিহীন নবীজির পথে কাঁটা বিছানো সেই বৃদ্ধার ঘটনা তো আমরা সবাই জানি এরকম একটা ধর্মের অনুসারী হয়ে আমরা যখন বিয়োজনমূলক আচরণ করি, তখন সত্যিই বিস্ময় জাগে যে রকম বিস্ময় জাগে আমাদের প্রগতিশীলদের আচরণে
সম্পর্ক: Bangladesh Protidin




 

No comments:

Post a Comment